জীর্ণ বেড়ার ঘরে মানুষেরা নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকে।
"আমি সেই জগতে হারিয়ে যেতে চাই"- এর দ্বারা কবি দুর্ভাবনামুক্ত সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনে মিশে যাওয়াকে বুঝিয়েছেন।
'আশা' কবিতায় কবি বিত্ত-বৈভব অর্জনের লোভ ত্যাগ করে সাধারণ মানুষকে ভালোবেসে তাদের মতো জীবনযাপন করে সুখী হতে চান। কবি গতানুগতিক জীবনের বাইরে এসে সাধারণ মানুষের জীবনকে গ্রহণ করতে চেয়েছেন। তিনি তাদের মতো নির্ভাবনাময় সুখের জীবন প্রত্যাশা করেছেন। তিনি এখানে আত্মকেন্দ্রিক জীবন পরিহার করে মানুষে মানুষে ভেদহীন এক জীবনের কথা বলেছেন। যেখানে অর্থ-বিত্তের অহংকার নেই, যেখানে মানুষ জীর্ণ বেড়ার ঘরেও নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে যেতে পারে। এই বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকের আলম সাহেব 'আশা' কবিতার বিত্তসুখের ভাবনায় কাতর মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
সুখ একটি আপেক্ষিক বিষয়। অর্থ-বিত্তের লোভে নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রেখে সুখী হওয়া যায় না। নির্লোভ ও নির্ভাবনাময় জীবনই সুখের জীবন। আর তা অর্জন করলে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের মানসিকতা অর্জন করতে হয়।
উদ্দীপকের আলম সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি অর্থবিত্তের ভাবনায় অস্থির থাকেন। তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের অসন্তোষ চলায় ব্যবসায়ে মন্দা দেখা দিয়েছে। দুশ্চিন্তায় তার রক্তচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, অন্যের সুখ-দুঃখ নিয়ে চিন্তা করার অবসর তার নেই। উদ্দীপকের আলম সাহেবের এই অস্থিরতা 'আশা' কবিতায় প্রতিফলিত বিত্তসুখের দুর্ভাবনায় থাকা মানুষের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তারা সামান্য নিয়ে তুষ্ট থাকে না। সুখের জন্য অনেক অর্থ-সম্পদ গড়ে তোলার লোভে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। বিত্তসুখের দুর্ভাবনায় জীবনপাত করে। উদ্দীপকের আলম সাহেবও তার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যবসায়ে মন্দা এসবের চিন্তায় ঘুমাতে পারেন না। এভাবে উদ্দীপকের আলম সাহেব 'আশা' কবিতায় প্রতিফলিত বিত্তসুখের দুর্ভাবনাময় জীবনের অধিকারী মানুষের প্রতিনিধি।
"উদ্দীপকের সলিম মিয়া 'আশা' কবিতার লেখকের প্রত্যাশিত ব্যক্তি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ যা চায় তার সবটুকু পায় না। এই না পাওয়ার বেদনা মানুষের মনে নিরাশা ও হতাশার জন্ম দেয়। আবার অনেকে মিথ্যা সুখের আশায় জীবনকে ব্যর্থ করে তোলে। জীবনকে অর্থবহ ও সার্থক করে তুলতে হলে অলীক সুখের প্রত্যাশা পরিহার করে সাধারণ মানুষের মতো অর্থ-বিত্তের লোভহীন সাধারণ জীবন গ্রহণ করতে হবে।
উদ্দীপকের সলিম মিয়া অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয়ের লোভে জীবনকে যন্ত্রণাময় করেনি। মধ্যবিত্ত ঘরের সাধারণ চাকুরে হিসোবে তিনি যে পরিমাণ আয় করেন তা দিয়েই তার চলে। সময়-সুযোগ পেলেই অন্যের দুঃখ-কষ্টের শরিক হন। পরোপকারী মনোভাব এবং অল্পে তুষ্ট বলে সলিম মিয়ার মনে প্রশান্তি বজায় থাকে। উদ্দীপকের এই সলিম মিয়ার প্রশান্তিময় জীবন 'আশা' কবিতার কবিও প্রত্যাশা করেছেন। বিত্ত-বৈভব অর্জনের ভাবনায় আয়ু না কমিয়ে ভাঙা বেড়ার ঘরে নির্ভাবনায় থাকা মানুষের জীবনের কথা বলেছেন। তিনি দুরাশা ও গ্লানিময় জীবনের বাইরে এসে সাধারণ মানুষের জীবনকে গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
আশা' কবিতায় কবি মূলত বিত্ত-বৈভব অর্জনের লোভ ত্যাগ করে মানুষকে ভালোবেসে মনুষ্যত্ব অর্জনের কথা বলেছেন। কবির এই প্রত্যাশা উদ্দীপকের সলিম মিয়ার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ তিনি বিত্ত-বৈভব অর্জনের জন্য লোভী নন। যা আছে তা নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট। এই বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!